প্রথম আলোর সাংবাদিক শামসুজ্জামানকে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইউএসএএল প্রেস বিজ্ঞপ্তি বলছে— ওই সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে মূলত চাইল্ড অ্যাবিউজের (শিশু নিপীড়ন) কারণে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘সম্প্রতি শামসুজ্জামানকে গ্রেফতার নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সংবাদে বলা হচ্ছে যে, জীবনযাত্রার মান নিয়ে প্রতিবেদন লেখার কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে; এই তথ্যটি সম্পূর্ণ ভুল ও বানোয়াট। ওই সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে চাইল্ড অ্যাবিউজ ও এক্সপ্লয়টেশনের (শিশু নিপীড়ন ও শোষণ) জন্য।’

এতে আরো উল্লেখ করা হয়, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে প্রতিদিন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘কাউকে এসব প্রতিবেদন লেখার জন্য গ্রেফতার করা হয়নি।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ‘ওই সাংবাদিক ৯ বছরের একটি শিশুকে ১০ টাকা দিয়েছিলেন এবং নিজের ভাষ্য ওই শিশুকে দিয়ে বলিয়েছিলেন’ অভিযোগ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এটি অবশ্যই চাইল্ড অ্যাবিউজ ও এক্সপ্লয়েটেশন। দ্বিতীয়ত মহান স্বাধীনতা দিবসে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে খাটো করে দেখার চেষ্টা করেছেন; এই ধরনের কার্যকলাপও অবশ্যই অপরাধযোগ্য শাস্তি।’

এতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার তার সকল নাগরিক ও গণমাধ্যমের মত প্রকাশের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এ ধরনের প্রতারণামূলক কাজ করে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা সৎ সাংবাদিকতার চেতনার পরিপন্থী। বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘের শিশু অধিকার কনভেনশনের (সিআরসি) পক্ষ হিসেবে শিশুদের নির্যাতনের এ ধরনের কোনো কাজকে বরদাস্ত করবে না। জাতির মহান স্বাধীনতা দিবসকে কলঙ্কিত করার লক্ষ্যে এ ধরনের কোনো প্রচেষ্টা সরকার মেনে নেবে না।

সকলের প্রতি বিনীতভাবে আহ্বান জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা বলা হয় যে ৯ বছর বয়সী একটি ছেলেকে নিয়ে বানোয়াট গল্প প্রকাশের জন্য প্রথম আলোর প্রতিবেদনের প্রতি নিন্দা জানাতে যা বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।